দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ জানেন না তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। ছেলের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়েও কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাহসিফ মাঝেমধ্যে আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা বলতেন বলে জানান তাঁর বাবা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন এনায়েতুল করিম হেলাল। তিনি জানান, তাহসিফ কোনো হুমকি বা ধমকির কথা পরিবারকে বলেননি। তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা জানাতেন। কী নিয়ে তাঁর এই আশঙ্কা ছিল, তা পরিবারকে জানাননি।
তাহসিফের বাবা বলেন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে পরিবারকে জানানো হয়। পরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), নেত্র নিউজ এবং সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিলেন। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এনায়েতুল করিম বলেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে সারাদিন তাহসিফ তাঁর মায়ের সঙ্গে ছিলেন। কেনাকাটাও করেছিলেন। বাবার জন্যও কিছু কেনাকাটা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর তাহসিফের এক জুনিয়র বন্ধু বাসার নিচে এসে তাঁকে ডাকেন। তখন মাকে ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’ বলে নিচে যান তাহসিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেননি।
তাহসিফের মা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি বলে জানান তাঁর বাবা। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ মেসেজে ‘মমি আসছি’ লিখেছিলেন। এরপর থেকে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার।
ছেলের খোঁজে থানায় যাওয়ার কথাও জানান এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তুরাগ থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে জানায়, এ ধরনের কোনো খারাপ খবর নেই। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বললে তিনি তাহসিফের পরিচয় নিশ্চিত করে নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান। যে এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে তাঁর ছেলে কখনো যেতেন না বলেও জানান তিনি।
এর আগে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ-পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা।
এমএম/